প্রাচীন বাংলার সামুদ্রিক বাণিজ্য ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতক থেকে বাংলার উপকূলীয় অঞ্চলগুলো যেমন তাম্রলিপ্ত (বর্তমান তমলুক, পশ্চিমবঙ্গ), পুণ্ড্রবর্ধন (বর্তমান মহাস্থানগড়) প্রভৃতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। এই অঞ্চলগুলি থেকে ধান, পাট, মসলা প্রভৃতি রপ্তানি হতো এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে স্বর্ণমুদ্রা আমদানি করা হতো।
বাণিজ্যের প্রসারে বাংলার নদীপথগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা প্রভৃতি নদীর মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালিত হতো। প্রাচীন গ্রীক ও রোমান লেখকদের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, বাংলার রেশম, তুলা ও দামি পাথরের ব্যবসা ছিল বিশ্ববিখ্যাত।
এই বাণিজ্যের কেন্দ্র ছিল পাহাড়পুরের মহাবিহার ও ময়নামতি। এখানকার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে প্রাচীন বাংলার সামুদ্রিক সভ্যতার সমৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া যায়। বর্তমানেও বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে প্রাচীন বাণিজ্যের নিদর্শন সংরক্ষণ করা হচ্ছে।