১৯৪০-এর দশকে ব্রিটিশ শাসনের শেষ মুহূর্তে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন তীব্রতা লাভ করে এবং বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা স্বতন্ত্র পরিচয় গড়তে শুরু করে। ১৯৪২ সালে তৎকালীন উপদেষ্টা শ্রীনিবাস রায়ের নেতৃত্বে ‘দুই-সপ্তাহের আন্দোলন’ বাঙালি জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
১৯৪৭-১৯৪৮ সালে ভাগের পরও বাঙালি জাতীয়তাবাদ থেমে যায়নি; বরং ‘বৈশিষ্ট্যভিত্তিক স্বায়ত্তশাসন’ ও ‘ব্রিটিশ শাসনের অবসান’ চাহিদা তীব্র হয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলন, যা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য পরিচালিত হয়, বাঙালি জাতীয় চেতনার সর্বোচ্চ প্রকাশ।
ভাষা আন্দোলনের ফলে ১৯৫৬ সালে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যা বাঙালি জাতীয় গর্বের ভিত্তি গড়ে তুলেছিল এবং পরবর্তী স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য শক্তিশালী আদর্শিক ভিত্তি সরবরাহ করে।