গৌড় রাজ্য প্রাচীন বাঙালি ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা ৬শ শতাব্দী থেকে ১২শ শতাব্দী পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী রাজ্য ছিল। রাজা ভগবতসিংহের সময় গৌড়ের সীমানা আধুনিক বাংলাদেশ, উত্তর ভারতের কিছু অংশ ও নেপালের কিছু এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
গৌড়ের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি প্রধানত কৃষি, বাণিজ্য ও সিল্ক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল ছিল। গৌড়ের বাণিজ্যিক নগরীগুলো, যেমন পাটালিপুত্র (আজকের পাটালিপুত্র), চন্দ্রপুর এবং কুড়িগ্রাম, সিল্ক রুটের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করত। এই সময়ে বৌদ্ধ, হিন্দু ও জৈন ধর্মের সংমিশ্রণ দেখা যায়, যা সংস্কৃতির সমৃদ্ধি বাড়িয়ে তুলেছিল।
১২শ শতাব্দীতে মুসলিম শাসন এবং পঞ্চগণের আগমনের ফলে গৌড়ের ক্ষমতা হ্রাস পায়। শেষ পর্যন্ত গৌড় রাজ্য শেষবারের মতো ১৩১০ খ্রিস্টাব্দে সুলতান শায়খুল আমিনের আক্রমণে ধসে পড়ে, ফলে অঞ্চলটি নতুন রাজনৈতিক গঠনের অধীনে আসে।