বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ১৯ শতকের শেষদিকে শুরু হয়ে ২০ শতকের প্রথমার্ধে পূর্ণ বিকাশ লাভ করে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকশিত হয়। ১৮ শতকের শেষদিকে রামমোহন রায়ের মতো সংস্কারকদের প্রচেষ্টা থেকে শুরু করে ১৯ শতকের শেষদিকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কেশবচন্দ্র সেন, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো ব্যক্তিত্বের সাহিত্যকর্মে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা প্রকাশ পায়।
বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলন (১৯০৫) ও এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এই সময়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা আরও শক্তিশালী হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলি ও গোরা এবং কবি কাজী নজরুল ইসলামের বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা কবিতাগুলি এই জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতীক হয়ে ওঠে। এই সময়ে বাংলা সাহিত্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা প্রকাশের পাশাপাশি সমাজ সংস্কারের চেতনাও বিকশিত হয়।
১৯৪৭ সালের ভারত বিভাজনের পর বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে নতুন জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটে। পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) সরকারের ভাষা আন্দোলন (১৯৫২) ও এর পরের দিনগুলিতে বাংলা ভাষার জন্য লড়াইয়ের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা আরও শক্তিশালী হয়। এই সময়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা বাংলা সাহিত্যে নতুন রূপ লাভ করে।
বাংলা সাহিত্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশের প্রধান কারণগুলির মধ্যে রয়েছে ভাষা ও সাহিত্যের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয় গড়ে তোলা, সমাজ সংস্কারের প্রচেষ্টা, ও স্বাধীনতা সংগ্রামের আন্দোলন। এই জাতীয়তাবাদী চেতনা বাংলা সাহিত্যের বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখে এবং বাঙালি জাতীয় পরিচয় গড়ে তোলে।