ব্রিক্স (BRICS) হলো একটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা সমিতি, যা ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার (২০১০ সাল থেকে) পাঁচটি দেশের সংক্ষেপে গঠিত। এই সংগঠনটি ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০০৬ সালে প্রথম আনুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিক্সের মূল উদ্দেশ্য ছিলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তাদের ভূমিকা বৃদ্ধি করা। বর্তমানে ব্রিক্সের সদস্য সংখ্যা ৫ থেকে ১১-এ বৃদ্ধি পেয়েছে (২০২৪ সালে ইরান, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিশর, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, এথিওপিয়া ও ইরান যোগদান করেছে)।
ব্রিক্সের বর্তমান অবস্থা বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সারিবদ্ধ। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার সাথে পশ্চিমা দেশগুলির সম্পর্কের অবনতি ব্রিক্সকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই সংগঠনটি ডলার-কেন্দ্রিক বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তে জাতীয় মুদ্রায় ব্যবসা করার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। ২০২৪ সালে ব্রিক্সের নতুন সদস্যদের যোগদানের মাধ্যমে এটি একটি আরও বৈচিত্র্যময় ও প্রভাবশালী সংগঠনে রূপান্তরিত হচ্ছে।
ব্রিক্সের প্রসার বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর জন্য একটি নতুন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি করেছে। এই সংগঠনটি ওপেকের মতো পেট্রোলিয়াম-ভিত্তিক সমিতি থেকে শুরু করে একটি বহুমুখী অর্থনৈতিক ব্লক হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ব্রিক্সের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে। বিশেষত, চীনের 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' (BRI) এবং রাশিয়ার 'ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়ন' এর সাথে ব্রিক্সের সমন্বয় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দোরোখান করে দিয়েছে।
ব্রিক্সের প্রসার এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব বুঝতে হলে এর সাথে যুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান, তাদের বৈদেশিক নীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। এই বিষয়টি BCS পরীক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক বিষয়াবলীর অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।