বাংলাদেশের পরিবেশগত সমস্যা প্রধানত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, কৃষি কার্যক্রম ও অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে সৃষ্ট। এখানে প্রধান সমস্যা হলো: দূষণ (বায়ু, জল ও মাটি), বন্যা ও বন্যা-সম্পর্কিত ক্ষতি, উপকূলীয় অবক্ষয়, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহার। বায়ু দূষণ প্রধানত শিল্পাঞ্চল, পরিবহন ও কৃষি থেকে সৃষ্ট নাইট্রোজেন অক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইড ও সার দূষণের কারণে। জল দূষণ নদী, হাওর ও উপকূলীয় এলাকায় শিল্প দূষণ, কৃষি সার ও কীটনাশকের কারণে ঘটে, যা মাছ ও পানীয় জলের গুণগত মান হ্রাস করে।
বাংলাদেশের পরিবেশগত সমস্যার সমাধান হিসেবে সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন: বন্যা প্রতিরোধ প্রকল্প (কপোতাক্ষ, ধলেশ্বরী নদীতে বাঁধ নির্মাণ), জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ন্যাশনাল ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি, নবায়নযোগ্য শক্তি উন্নয়ন (সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি), বনায়ন প্রকল্প (উপকূলীয় বনায়ন, নদী তীরবর্তী বনায়ন) ও পরিবেশ আইন প্রণয়ন (বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫)। এছাড়াও, জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষামূলক কর্মসূচি, পরিবেশ সচেতনতা কর্মশালা ও মিডিয়া ক্যাম্পেইন চালু করা হয়েছে।
BCS পরীক্ষায় এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি বাংলাদেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে জড়িত। পরীক্ষায় এই বিষয়ে প্রশ্ন আসতে পারে যেমন: পরিবেশ দূষণের কারণ ও সমাধান, বন্যা প্রতিরোধের পদক্ষেপ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশের ভূমিকা, পরিবেশ আইন ও নীতিমালা ইত্যাদি। এছাড়াও, বাংলাদেশের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধানে সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা পরীক্ষায় আলোচিত হতে পারে।
পরিবেশগত সমস্যা মোকাবেলায় ব্যক্তিগত ও সংগঠনগত উভয় স্তরে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। যেমন: পুনঃব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বনায়ন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, সঠিক কৃষি পদ্ধতি অবলম্বন, শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি।