বাংলাদেশের ভূমিরূপ মূলত প্লেইস্টোসিন যুগের নদী জমাট বাঁধা এবং হোলোসিন যুগের সেডিমেন্ট ডিপোজিশন দ্বারা গঠিত। দেশের প্রধান ভূমিরূপের মধ্যে রয়েছে ব্রহ্মপুত্র-গঙ্গা-মেঘনা নদী তলাবদ্ধ এলাকা, চট্টগ্রামের হিল ট্র্যাক, মেঘনা নদীর ব-দ্বীপ এবং সুন্দরবনের মরিচা ভূমি। এই ভূমিরূপগুলি দেশের জলবায়ু, জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র-গঙ্গা-মেঘনা নদী তলাবদ্ধ এলাকাগুলো বাংলাদেশের প্রধান কৃষি ও জনবসতিপূর্ণ অঞ্চল, যেখানে বন্যা ও সাইক্লোনের ঝুঁকি সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম জটিল নদী ব্যবস্থা। ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা ও মেঘনা এই তিনটি প্রধান নদী দেশের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রধান ভূমিকা পালন করে। ব্রহ্মপুত্র নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করে জামুনা, তিস্তা, ধলেশ্বরী ইত্যাদি উপনদীতে বিভক্ত হয়ে প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে, গঙ্গা নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করে পদ্মা নামে পরিচিত হয়ে মেঘনা নদীতে মিলিত হয়। এই নদীগুলির মাধ্যমে বাংলাদেশের জল সরবরাহ, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ ও পরিবহন ব্যবস্থা পরিচালিত হয়।
বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থার একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো নদীদ্বীপ ও ব-দ্বীপের সৃষ্টি। যেমন, মেঘনা নদীর ব-দ্বীপ (পাবনা, রাজশাহী) এবং পদ্মা নদীর ব-দ্বীপ (মাদারীপুর, ফরিদপুর)। এই অঞ্চলগুলি বাংলাদেশের কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, নদীদ্বীপের ক্ষয়-প্রবণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই অঞ্চলগুলির স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশের ভূমিরূপ ও নদী ব্যবস্থা বন্যা, সাইক্লোন ও ভূমি ক্ষয় এর প্রধান কারণ। সরকারি নীতি ও প্রকল্প যেমন বন্যা-প্রতিরোধী কাঠামো, নদী সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নদী ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবন প্রকল্পগুলি এই সমস্যা মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।