বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনঃচর্যার্চবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।চর্যাপদ মূলতঃ গানের সংকলন। এর মূল বিষয়বস্তু- বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।সাধারণতঃ বৌদ্ধ সহজিয়াগণ চর্যাগুলো রচনা করেন ।চর্যায় কত জন কবির পদ পাওয়া গেছে এ নিয়ে মতান্তর আছে। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত ‘বুডডিস্ট মিস্টিক সংস’ গ্রন্থে ২৩ জন কবির নাম আছে। সুকুমার সেন ‘বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস’ (১ম খন্ড) গ্রন্থে ২৪ জন কবির কথা বলেছেন। রাহুল সাংকৃতায়ন নেপাল-তিববতে প্রাপ্ত তালপাতার পুথিতে আরো কয়েকজন নতুন কবির চর্যাগীতি পেয়ে ‘দোহা-কোষ’ (১৯৫৭) গ্রন্থে সংযোজন করেছেন। সে বিচারে এক কথায় বলা চলে চর্যাপদের কবির সংখ্যা ২৩, মতান্তরে ২৪। কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি পদ রচনা করেন। ১৩টি পদ রচনা করেন। ১২টি পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ লেখেন-ভুসুকুপা: ৮টি।তন্ত্রীপা (না পাওয়া পদ নং -২৫) কবি রচিত পদটি পাওয়া যায় নি ।
চর্যাপদে যেসব পদ পাওযা যায় নি-২৪ (কাহ্নপা রচিত), ২৫ ( তন্ত্রী পা রচিত), ৪৮ (কুক্কুরীপা রচিত) সংখ্যক।প্রশ্নঃ চর্যাপদ গ্রন্থে মোট কয়টি পদ পাওয়া গেছে?উত্তরঃ সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খন্ডিত অংশসহ)।প্রশ্নঃ চর্যার পদগুলো কোন ভাষায় রচিত?উত্তরঃ সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষায় রচিত।প্রশ্নঃ সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষা কি?উত্তরঃ যে ভাষা সুনির্দিষ্ট রূপ পায় নি, যে ভাষার অর্থও একাধিক অর্থাৎ আলো-আঁধারের মত, সে ভাষাকে পন্ডিতগণ সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষা বলেছেন।প্রশ্নঃ চর্যাপদ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত প্রথম পদটি কার লেখা? তা উল্লেখ কর।উত্তরঃ লুইপার।প্রশ্নঃ চর্যাপদের আবিষ্কারক কে?উত্তরঃ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।প্রশ্নঃ তিনি কোন উপাধি প্রাপ্ত হন?উত্তরঃ মহামহোপাধ্যায়।প্রশ্নঃ কোথায় থেকে, কত সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করা হয়?উত্তরঃ নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করা হয়।প্রশ্নঃ চর্যাপদ কবে, কোথা থেকে, কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়ে জনসমক্ষে আসে?উত্তরঃ ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।প্রশ্নঃ চর্যাপদের রচনাকাল সম্পর্কে কে কি বলেন?উত্তরঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে পদগুলো রচিত। সুকুমার সেন সহ বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব পন্ডিতই সুনীতিকুমারকে সমর্থন করেন।প্রশ্নঃ চর্যাপদের নাম নিয়ে প্রস্তাবগুলো কি?উত্তরঃ কারো মতে গ্রন্থটির নাম, ‘আশ্চর্য চর্যাচয়’, সুকুমার সেনের মতে ‘চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়, আধুনিক পন্ডিতদের মতে এর নাম ‘চর্যাগীতিকোষ’ আর হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে ‘চর্য্যার্চয্যবিনিশ্চয়’। তবে ‘চর্যাপদ’ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নাম।প্রশ্নঃ চর্যার কবিদের মধ্যে কোন কবি সর্বাপেক্ষা প্রাচীন বলে মনে করা হয়?উত্তরঃ শবরপা (৬৮০ থেকে ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ)।প্রশ্নঃ চর্যাপদের সর্বাধিক পদরচয়িতা কোন কবি?উত্তরঃ কাহ্নপা।প্রশ্নঃ তিনি কয়টি ও কোনপদগুলো রচনা করেন?উত্তরঃ ১টি। পদগুলোঃ ৭, ৯ থেকে ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২, ৪৫ (২৪ নং পদটি কাহ্নপা রচিত, তবে সেটি পাওয়া যায় নি)প্রশ্নঃ চর্যাপদে যে পদগুলো পাওয়া যায় নি তার কোনটি কাহ্নপার রচনা বলে মনে করা হয়।উত্তরঃ ২৪ নং পদটি।প্রশ্নঃ চর্যাপদে কাহ্নপা আর কি কি নাম পাওয়া যায়?উত্তরঃ কাহ্নু, কাহ্নি, কাহ্নিল, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ।প্রশ্নঃ কুক্কুরীপা কি মহিলা কবি ছিলেন?উত্তরঃ কোন সুনিশ্চিত প্রমাণ নেই। তবে অনেকের মতে কুক্কুরীপা নারী ছিলেন।প্রশ্নঃ তিনি কয়টি পদ রচনা করেন ও কি কি?উত্তরঃ ২টি। ২ ও ২০ সংখ্যক। মনে করা হয়, খুঁজে না পাওযা ৪৮ নং পদটিও তাঁর রচনা। সে হিসেবে ৩টি।প্রশ্নঃ কুক্কুরীপা রচিত অতিপরিচিত দুটি পংক্তি কি?উত্তরঃ দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই। রাতি ভইলে কামরু জাই। (পদ:২) (অর্থাৎ দিনে বউটি কাকের ভয়ে ভীত হয় কিন্তু রাত হলেই সে কামরূপ যায়।)প্রশ্নঃ লুইপা কে ছিলেন?উত্তরঃ প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি।প্রশ্নঃ লুইপা কোন অঞ্চলের কবি ছিলেন?উত্তরঃ তিববতী ঐতিহাসিক লামা তারনাথের মতে লুইপা পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গার ধারে বাস করতেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক।প্রশ্নঃ চর্যাপদের প্রথম পদটি কার রচনা?উত্তরঃ লুইপার।প্রশ্নঃ এই পদের দুটি চরণ লিখ।উত্তরঃ কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল\ (পদ: ১) ( অর্থাৎ দেহ গাছের মত, এর পাঁচটি ডাল। চঞ্চল মনে কাল প্রবেশ করে।)প্রশ্নঃ চর্যায় তিনি মোট কতটি পদ লিখেছেন?উত্তরঃ দুটি (১ ও ২৯) সংখ্যক)প্রশ্নঃ লুইপা রচিত কয়টি সংস্কৃতগ্রন্থের নাম পাওয়া যায়, কি কি?উত্তরঃ ৫টি। অভিসময় বিভঙ্গ, বজ্রস্বত্ব সাধন, বুদ্ধোদয়, ভগবদাভসার, তত্ত্ব সভাব।প্রশ্নঃ শবরপা কোন সময়ের কবি?উত্তরঃ তার জীবনকাল ৬৮০ থেকে ৭৬০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। সেই সূত্রে শবরপা চর্যার কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন।প্রশ্নঃ শবরপা কোন দেশের লোক ছিলেন?উত্তরঃ মহুম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি ‘বাংলা দেশে’র লোক।প্রশ্নঃ শবরপা কোন কবির গুরু ছিলেন?উত্তরঃ লুইপার।প্রশ্নঃতিনি কার শিষ্য ছিলেন?উত্তরঃ নাগার্জুনের।প্রশ্নঃ সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি কয়টি গ্রন্থ লিখেছেন।উত্তরঃ ১৬টি।প্রশ্নঃ চর্যাপদের কোন পদগুলো তার রচনা?উত্তরঃ ২৮ ও ৫০ সংখ্যক।
চর্যাপদে যেসব পদ পাওযা যায় নি-২৪ (কাহ্নপা রচিত), ২৫ ( তন্ত্রী পা রচিত), ৪৮ (কুক্কুরীপা রচিত) সংখ্যক।প্রশ্নঃ চর্যাপদ গ্রন্থে মোট কয়টি পদ পাওয়া গেছে?উত্তরঃ সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খন্ডিত অংশসহ)।প্রশ্নঃ চর্যার পদগুলো কোন ভাষায় রচিত?উত্তরঃ সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষায় রচিত।প্রশ্নঃ সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষা কি?উত্তরঃ যে ভাষা সুনির্দিষ্ট রূপ পায় নি, যে ভাষার অর্থও একাধিক অর্থাৎ আলো-আঁধারের মত, সে ভাষাকে পন্ডিতগণ সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষা বলেছেন।প্রশ্নঃ চর্যাপদ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত প্রথম পদটি কার লেখা? তা উল্লেখ কর।উত্তরঃ লুইপার।প্রশ্নঃ চর্যাপদের আবিষ্কারক কে?উত্তরঃ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।প্রশ্নঃ তিনি কোন উপাধি প্রাপ্ত হন?উত্তরঃ মহামহোপাধ্যায়।প্রশ্নঃ কোথায় থেকে, কত সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করা হয়?উত্তরঃ নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করা হয়।প্রশ্নঃ চর্যাপদ কবে, কোথা থেকে, কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়ে জনসমক্ষে আসে?উত্তরঃ ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।প্রশ্নঃ চর্যাপদের রচনাকাল সম্পর্কে কে কি বলেন?উত্তরঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে পদগুলো রচিত। সুকুমার সেন সহ বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব পন্ডিতই সুনীতিকুমারকে সমর্থন করেন।প্রশ্নঃ চর্যাপদের নাম নিয়ে প্রস্তাবগুলো কি?উত্তরঃ কারো মতে গ্রন্থটির নাম, ‘আশ্চর্য চর্যাচয়’, সুকুমার সেনের মতে ‘চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়, আধুনিক পন্ডিতদের মতে এর নাম ‘চর্যাগীতিকোষ’ আর হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে ‘চর্য্যার্চয্যবিনিশ্চয়’। তবে ‘চর্যাপদ’ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নাম।প্রশ্নঃ চর্যার কবিদের মধ্যে কোন কবি সর্বাপেক্ষা প্রাচীন বলে মনে করা হয়?উত্তরঃ শবরপা (৬৮০ থেকে ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ)।প্রশ্নঃ চর্যাপদের সর্বাধিক পদরচয়িতা কোন কবি?উত্তরঃ কাহ্নপা।প্রশ্নঃ তিনি কয়টি ও কোনপদগুলো রচনা করেন?উত্তরঃ ১টি। পদগুলোঃ ৭, ৯ থেকে ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২, ৪৫ (২৪ নং পদটি কাহ্নপা রচিত, তবে সেটি পাওয়া যায় নি)প্রশ্নঃ চর্যাপদে যে পদগুলো পাওয়া যায় নি তার কোনটি কাহ্নপার রচনা বলে মনে করা হয়।উত্তরঃ ২৪ নং পদটি।প্রশ্নঃ চর্যাপদে কাহ্নপা আর কি কি নাম পাওয়া যায়?উত্তরঃ কাহ্নু, কাহ্নি, কাহ্নিল, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ।প্রশ্নঃ কুক্কুরীপা কি মহিলা কবি ছিলেন?উত্তরঃ কোন সুনিশ্চিত প্রমাণ নেই। তবে অনেকের মতে কুক্কুরীপা নারী ছিলেন।প্রশ্নঃ তিনি কয়টি পদ রচনা করেন ও কি কি?উত্তরঃ ২টি। ২ ও ২০ সংখ্যক। মনে করা হয়, খুঁজে না পাওযা ৪৮ নং পদটিও তাঁর রচনা। সে হিসেবে ৩টি।প্রশ্নঃ কুক্কুরীপা রচিত অতিপরিচিত দুটি পংক্তি কি?উত্তরঃ দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই। রাতি ভইলে কামরু জাই। (পদ:২) (অর্থাৎ দিনে বউটি কাকের ভয়ে ভীত হয় কিন্তু রাত হলেই সে কামরূপ যায়।)প্রশ্নঃ লুইপা কে ছিলেন?উত্তরঃ প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি।প্রশ্নঃ লুইপা কোন অঞ্চলের কবি ছিলেন?উত্তরঃ তিববতী ঐতিহাসিক লামা তারনাথের মতে লুইপা পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গার ধারে বাস করতেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক।প্রশ্নঃ চর্যাপদের প্রথম পদটি কার রচনা?উত্তরঃ লুইপার।প্রশ্নঃ এই পদের দুটি চরণ লিখ।উত্তরঃ কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল\ (পদ: ১) ( অর্থাৎ দেহ গাছের মত, এর পাঁচটি ডাল। চঞ্চল মনে কাল প্রবেশ করে।)প্রশ্নঃ চর্যায় তিনি মোট কতটি পদ লিখেছেন?উত্তরঃ দুটি (১ ও ২৯) সংখ্যক)প্রশ্নঃ লুইপা রচিত কয়টি সংস্কৃতগ্রন্থের নাম পাওয়া যায়, কি কি?উত্তরঃ ৫টি। অভিসময় বিভঙ্গ, বজ্রস্বত্ব সাধন, বুদ্ধোদয়, ভগবদাভসার, তত্ত্ব সভাব।প্রশ্নঃ শবরপা কোন সময়ের কবি?উত্তরঃ তার জীবনকাল ৬৮০ থেকে ৭৬০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। সেই সূত্রে শবরপা চর্যার কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন।প্রশ্নঃ শবরপা কোন দেশের লোক ছিলেন?উত্তরঃ মহুম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি ‘বাংলা দেশে’র লোক।প্রশ্নঃ শবরপা কোন কবির গুরু ছিলেন?উত্তরঃ লুইপার।প্রশ্নঃতিনি কার শিষ্য ছিলেন?উত্তরঃ নাগার্জুনের।প্রশ্নঃ সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি কয়টি গ্রন্থ লিখেছেন।উত্তরঃ ১৬টি।প্রশ্নঃ চর্যাপদের কোন পদগুলো তার রচনা?উত্তরঃ ২৮ ও ৫০ সংখ্যক।