রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা: বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান এবং সংবিধানের অধীনে সর্বোচ্চ আইনগত কর্তা। তিনি সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ডার হিসেবে কাজ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ ও অপসারণের সুপারিশ করেন। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রীয় ও রাষ্ট্রপতির মিশন পরিচালনা করেন, আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষর করেন এবং সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পূর্বে তা পর্যালোচনা করেন। তবে বাস্তবিক নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকে।
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকারের প্রধান এবং নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। তিনি মন্ত্রিসভা গঠন করেন, জাতীয় নীতির প্রণয়ন ও কার্যকরকরণের দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ সভাপতি হিসেবে মন্ত্রীদের নিযুক্তি ও অপসারণ করেন এবং সংসদে সরকারের নীতিগত দায়িত্ব বহন করেন। সংবিধান অনুযায়ী, তিনি কাউন্সিল অব মিনিস্টার্সকে নেতৃত্ব দেন এবং সরকারের নীতিগত বিষয়সমূহের উপর সংসদে প্রতিবেদন দেন।
ক্ষমতার বিভাজন: বাংলাদেশের সংবিধান প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একসাথে কাজ করেন। রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক ক্ষমতা বহন করেন, যেমন সংসদ ভেঙে নির্বাচন করার ক্ষমতা, তবে প্রধানমন্ত্রী বাস্তবিক নির্বাহী ক্ষমতা রাখেন। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মন্ত্রিসভা গঠনের সুপারিশ করেন, কিন্তু সরকার পরিচালনার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে ছিল।
BCS প্রস্তুতির জন্য: এই বিষয়ে প্রশ্ন আসতে পারে ‘রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কত প্রকার?’ (সাংবিধানিক, কার্যনির্বাহী, বিচারিক) বা ‘প্রধানমন্ত্রী কীভাবে মন্ত্রিসভা গঠন করেন?’। বর্তমান সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন।