প্রিয় শিক্ষার্থী, আজ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর দেয়া হলো।
অল্প কথায় উত্তর দাও
প্রশ্ন : ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতাসংগ্রামে তিতুমীর, সূর্যসেন, প্রীতিলতা ও ক্ষুদিরাম কী অবদান রেখেছিলেন?
উত্তর : বিদেশি ইংরেজ শাসনকে বাংলার মানুষ কিন্তু বিনা প্রতিরোধে মেনে নেয়নি। আঠারো শতকের শেষ ভাগ থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত বাংলায় একাধিক প্রতিরোধ আন্দোলন হয়েছে।
এসবের মধ্যে তিতুমীরের বিদ্রোহ উল্লেখযোগ্য। ইংরেজ ও জমিদারদের শোষণ-অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পেতে তিতুমীর বর্তমান ভারতের পশ্চিম বাংলার চবি্বশ পরগনা জেলার নারকেলবাড়িয়া গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়েছিলেন। যুদ্ধরত অবস্থায় তিনি মারা যান।
ইংরেজ শাসকদের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নেয়ার কারণে ক্ষুদিরাম ও মাস্টারদা সূর্যসেনকে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল। আর সফল অভিযান শেষে ইংরেজদের হাতে ধরা পড়া এড়ানোর জন্য প্রীতিলতা স্বেচ্ছায় আত্মাহুতি দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন : বাংলায় নবজাগরণের ফলাফল কী ছিল?
উত্তর : আধুনিক শিক্ষা ও নবজাগরণের ফলে উনিশ শতকে বাংলা তথা ভারতে জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটে। এরই ফলে একসময় ১৮৮৫ সালে 'ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস' নামক রাজনৈতিক দল গঠিত হয়।
বাংলার জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দমনের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৯০৫ সালে তৎকালীন বাংলা প্রদেশকে ভাগ করে পূর্ব বাংলা ও আসাম নিয়ে নতুন প্রদেশ গঠন করে। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে বাংলায়। এ কারণে ইংরেজরা ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়। বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে বাংলায় স্বদেশি চেতনার ব্যাপক বিস্তার ঘটে। ফলে স্বরাজ আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন ও সশস্ত্র যুব বিদ্রোহ ঘটে। এসব বহুমুখী ও ধারাবাহিক আন্দোলনের কারণেই ইংরেজরা একসময় এ দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়।
প্রশ্ন : বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনব্যবস্থা কবে ও কীভাবে শুরু হয়?
উত্তর : ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে মির কাশিম পরাজিত হন। এর পর থেকেই ইংরেজরা পুরোপুরি ক্ষমতা দখল শুরু করে। ১৭৫৭ থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত ১০০ বছর এ দেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন চলে, যা ইতিহাসে কোম্পানির শাসন নামে পরিচিত। কোম্পানির প্রথম শাসনকর্তা ছিলেন লর্ড ক্লাইভ। প্রায় ১০০ বছর পর ১৮৫৭ সালে কোম্পানির নীতি ও শোষণের বিরুদ্ধে সিপাহি বিদ্রোহ দেখা দেয়। কোম্পানির শাসন রদ করে ১৮৫৮ সালে বাংলাসহ ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি নিজ হাতে তুলে নেয়, যা চলে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত।
প্রশ্ন : ইংরেজ শাসনবিরোধী আন্দোলনে তিতুমীরের ভূমিকা আলোচনা কর।
উত্তর : ইংরেজ শাসনকে বাংলার মানুষ বিনা প্রতিরোধে মেনে নেয়নি। আঠারো শতকের শেষ ভাগ থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত বাংলায় একাধিক প্রতিরোধ আন্দোলন হয়েছে। এর মধ্যে ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, তিতুমীরের বিদ্রোহ, ফরায়েজি আন্দোলন, সাঁওতাল বিদ্রোহ ইত্যাদি। ইংরেজ ও জমিদারদের শোষণ-অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে তিতুমীর বর্তমান ভারতের পশ্চিম বাংলার চবি্বশ পরগনা জেলায় নারকেলবাড়িয়া গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়েছিলেন। যুদ্ধরত অবস্থায় তিনি মারা যান।
প্রশ্ন : ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালি নেতা ও লেখকদের ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর : জাতীয় পর্যায়ে স্বাধীনতা আন্দোলনে একাধিক উল্লেখযোগ্য বাঙালি নেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, চিত্তরঞ্জন দাশ, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক প্রমুখ।
এ ছাড়া বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখনীর কারণে বাঙালির স্বাধিকারচেতনা বেগবান হয়। নারীজাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এ সময় নারী শিক্ষা বিস্তারে নিরলস পরিশ্রম করেন।