নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা

সহকারী শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
পয়লা বৈশাখ
জেগেছে বাঙ্গালির ঘরে একি মাতন দোলা
জেগেছে সুরেবই তালে হৃদয় মাতন দোলা
বছর ঘুরে এলো আরেক প্রভাত নিয়ে
ফিরে এলো সুরের মঞ্জরী
পলাশ শিমুল গাছে লেগেছে আগুন এ বুঝি
বৈশাখ এলেই শুনি।
ক. বাঙালির জাতীয় উৎসব কী?
খ. বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্যকে সুপ্রাচীন বলা হয়েছে কেন?
গ. উদ্দীপকের উৎসবের সঙ্গে পয়লা বৈশাখ প্রবন্ধের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য দেখাও।
ঘ. উদ্দীপকের আনন্দ ও আবেগানুভূতি পয়লা বৈশাখ রচনাতে আরও বৃহৎ আকারে দেখানো হয়েছে। - উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর :
ক. বাঙালির জাতীয় উৎসব হল পয়লা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ।
খ. বাংলা নববর্ষ অনেক প্রাচীনকাল থেকে বাঙালির প্রধান উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে আসছে এজন্য বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্যকে সুপ্রাচীন বলা হয়েছে।
বহু শতবর্ষ আগে থেকেই বাংলার মানুষ নববর্ষ পালন করে আসছে। সাড়ে তিনশ বছরেরও বেশি আগে থেকে ঐতিহাসিক আবুল ফজল তার আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে বাংলা নববর্ষকে এদেশের জনগণের নওরোজ বা নতুন দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পরবর্তীতে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে ব্রিটিশ আমলে শোষিত মানুষের অন্তরে দেশাত্মবোধ ও স্বদেশিকতা জাগ্রত হয়। বলা যেতে পারে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই উৎসব উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে তা আজ সুপ্রাচীন ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
গ. উদ্দীপকের উৎসবের সঙ্গে পয়লা বৈশাখ রচনার সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য উভয়ই লক্ষ্য করা যায়।
মানুষ তার আবেগ ও হৃদয়ানুভূতি দিয়ে নানা উৎসবে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে। এ অনুভূতি তার হৃদয় থেকে উৎসারিত, ধীরে ধীরে এই উৎসব রূপ নেয় বৃহৎ পরিসরে।
উদ্দীপক ও রচনায় উৎসব পালনের এই বিশেষ দিকটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। উদ্দীপকে উৎসবের মধ্য দিয়ে বাঙালির আনন্দ ও আবেগের কথা বলা হয়েছে যা পয়লা বৈশাখ রচনার বর্ণিত উৎসবের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এছাড়া উভয় স্থানেই পয়লা বৈশাখের কথা বলা হয়েছে। তবে উদ্দীপকটি শুধুমাত্র পয়লা বৈশাখ আগমন উপলক্ষে বাঙালির আবেগ ও অনুভূতির মধ্যে সীমাবদ্ধ কিন্তু পয়লা বৈশাখ রচনার পরিসর আরও বিস্তৃত। পয়লা বৈশাখ রচনার মধ্যে আনন্দ উৎসবের মধ্যেও বাঙালির জাতীয়তাবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার রূপটি দেখানো হয়েছে যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। পয়লা বৈশাখ রচনায় বাঙালির এই প্রাণের উৎসবের সামগ্রিকতা নিয়ে আলোচনা করা হলেও উদ্দীপকে তা হয়নি।
ঘ. উদ্দীপকে পয়লা বৈশাখ উদ্যাপনের বাঙালির আবেগ ও অনুভূতির বিষয় দেখানো হলেও পয়লা বৈশাখ রচনায় তা বৃহৎ আকারে প্রকাশ পেয়েছে।
বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের মধ্যে রয়েছে বাঙালির আবেগ অনুভূতি যার মধ্য দিয়ে জাতির স্বদেশিকতা ও জাতীয়তাবোধ জাগ্রত হয়, সেই সঙ্গে বাঙালির মনে অসাম্প্রদায়িক মনোভাব গড়ে ওঠে।
উদ্দীপকের বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে বাঙালির হৃদয়ে গড়ে ওঠে পয়লা বৈশাখ উদ্যাপনের আবেগ-অনুভূতিকে দেখানো হয়েছে যা ছড়িয়ে পড়েছে প্রত্যেকটি বাঙালির ঘরে।
পয়লা বৈশাখ রচনার মধ্যে শুধুমাত্র নববর্ষ উদ্যাপনের আবেগ-অনুভূতিকেই দেখানো হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে বাঙালি সংস্কৃতি, অতীত ঐতিহ্যের ইতিহাস। নববর্ষের ইতিহাসের পাশাপাশি রয়েছে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে পয়লা বৈশাখ উদ্যাপনের আবেগ-অনুভূতি পয়লা বৈশাখ রচনায় আরও বৃহৎ পরিসরে দেখানো হয়েছে। উক্তিটি যথার্থ।

তথ্য সুত্রে অনলাইন