কবি-কবিতার নামে অসংগতি ব্যক্তি ও স্থানের নামে গরমিল

নামের বানান ও পদবি
নবম শ্রেণীর মাধ্যমিক ইতিহাস বইয়ের ৫৫ পৃষ্ঠায় ‘নুসরতশাহ’, ৫৬ পৃষ্ঠায় ‘নসরৎশাহ’ এবং ৭২ পৃষ্ঠায় ‘নসরত শাহ’ লেখা হয়েছে। বইটির ৯৭ পৃষ্ঠায় ‘ফরায়েজি’ এবং ১২০ পৃষ্ঠায় ‘প্রীতিলতা’ বানানটি ভুল।
নবম শ্রেণীর ইসলাম শিক্ষা বইয়ের ১০৩ পৃষ্ঠায় ‘রাসুল (আ.)’ লেখা আছে, হবে রাসুল (সা.)। ১৭৫ পৃষ্ঠায় ‘মূসা’ এবং ‘মুসা’ দুই রকম লেখা হয়েছে। ১৬৫ পৃষ্ঠায় ‘হযরত যায়েদ ইবনে ছাবিত (রা.)’ লেখা রয়েছে, একই বানান ৪২ পৃষ্ঠায় লেখা আছে ‘হযরত যায়দ ইবন সবিত (রা.)’। ১৭৪ পৃষ্ঠায় ‘ইবনে হাইসাম’ ও ‘নাছির উদ্দিন’ লেখা রয়েছে, ১৭৫ নম্বর পৃষ্ঠায় লেখা আছে ‘ইবনে হায়সাম’ এবং ‘নাসির উদ্দিন’। ৩০ পৃষ্ঠায় ‘ইসা (আ)’ লেখা থাকলেও ১৮ নম্বর লাইনে তা লেখা ‘ঈসা (আ.)’। ১৬২ ও ১৬৬ পৃষ্ঠায় ‘আলী’ লেখা হলেও একই শব্দটি ১৬৫ পৃষ্ঠায় ‘আলি’ লেখা রয়েছে।
বোর্ড বইয়ের প্রতিটি কপির প্রসঙ্গ-কথা অংশে বইটি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত একটি বর্ণনা দিয়ে নিচে বোর্ড চেয়ারম্যানের নাম থাকে। নবম-দশম শ্রেণীর অর্থনীতি বইয়ে চেয়ারম্যানের নামের বানান ভুল ছাপা হয়েছে (আছে মোস্তাফা, হবে মোস্তফা)। একই বইয়ের ৪ পৃষ্ঠায় একজন অর্থনীতিবিদের নাম কোথাও লেখা হয়েছে এল. রবিন্স, কোথাও রবিন্স।

স্থানের নাম
নবম শ্রেণীর মাধ্যমিক ইতিহাস বইয়ের ১৮ পৃষ্ঠায় ‘নওগাঁ’ জেলার জায়গায় ‘নাটোর’ জেলা লেখা হয়েছে। ২৭ পৃষ্ঠায় ‘রায়গঞ্জ’-এর জায়গায় লেখা হয়েছে ‘রূপগঞ্জ’। ২১২ পৃষ্ঠায় ‘মহেঞ্জোদারো’ এবং মেহেঞ্জোদারো’ দুভাবে লেখা আছে। ৪৮ পৃষ্ঠায় ‘বারানসি’ এবং ১৮ পৃষ্ঠায় ‘বারাণসী’ লেখা আছে।
লেখক ও বই
মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য বইয়ের চতুর্থ পৃষ্ঠায় উৎস গ্রন্থের নাম ‘আখ্যানমঞ্জুরী’ লেখা হয়েছে, হবে ‘আখ্যানমঞ্জরী’। ষষ্ঠ পৃষ্ঠায় সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসের নাম ‘জলপ্রতাপ চাঁদ’ লেখা হয়েছে, হবে ‘জালপ্রতাপ চাঁদ’। ১৬৮ পৃষ্ঠায় উৎস গ্রন্থের নাম ‘মানসিংহ ও ভবানন্দ’, হবে ‘মানসিংহ ও ভবানন্দ উপাখ্যান’।
২০২ পৃষ্ঠায় জীবনানন্দ দাশের গ্রন্থের নাম ‘সুতীর্থ’ লেখা হয়েছে, নামটি আসলে ‘সতীর্থ’। ২৩৬ পৃষ্ঠায় সৈয়দ শামসুল হকের গ্রন্থের নাম ‘নূরুলদীনের সারাজীবন’ লেখা হয়েছে, এর নাম ‘নূরলদীনের সারাজীবন’।
নির্মলেন্দু গুণের বহুল জনপ্রিয় ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’ কবিতাটির নাম ‘স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’ লেখা হয়েছে।
১৭৮ পৃষ্ঠায় মূল কবিতার নাম ‘A Paslm of Life’ লেখা হয়েছে। এটি হবে ‘A Psalm of Life’।
একই পৃষ্ঠায় মূল কবিতার কবির নাম Henry Wordworth Longfelow লেখা হয়েছে, প্রখ্যাত এই কবির নাম Henry Wadsworth Longfellow।
বইটিতে লেখক পরিচিতি, পাঠ পরিচিতি ও অনুশীলনীতে কিংবা একাধিক রচনায় উল্লেখিত তথ্যে বেশ কিছু গরমিল রয়েছে। এর সূচিপত্রে আছে ভারতচন্দ্র, মূল পাঠে আছে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। সূচিপত্রে মধুসূদন দত্ত থাকলেও মূলপাঠে আছে মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
রাজা-বাদশাদের নাম
নবম শ্রেণীর ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বইটিতে রাজা-বাদশাসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের নামে প্রচুর ভুল রয়েছে।
বইটির ৪৪ পৃষ্ঠায় ‘খলজি এবং ‘খলজী’, ৪৩ পৃষ্ঠায় ‘ইখতিয়ারউদ্দিন’ ও ৪৪ পৃষ্ঠায় ইখতিয়ারউদ্দীন’, ৪৫ পৃষ্ঠায় ‘মর্দান খলজি’ এবং ‘মদার্ন খলজি’, একই পৃষ্ঠায় ‘ইওজ খলজি’ এবং ‘ইওয়াজ খলজি’ লেখা আছে।
এ ছাড়া ৪৯ পৃষ্ঠায় ‘গিয়াসউদ্দিন’ ও ‘গিয়াসউদ্দীন’, একই পৃষ্ঠায় ‘আজম’ ও ‘আযম’, ৫৩ পৃষ্ঠায় ‘হাবসী’ এবং ‘হাবশি’, ৫৭ পৃষ্ঠায় ‘শাহ শূর’ এবং ‘শাহ সূর’ লেখা আছে।
৬১ পৃষ্ঠায় ‘সুবাদারি ও সুবেদারী’, নবাবি ও নবাবী’ দুভাবেই লেখা আছে।

তথ্য সুত্রে অনলাইন