নবম-দশম শ্রেণির পড়াশোনা (জীববিজ্ঞান)

অধ্যায়-৯
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ জীববিজ্ঞান বিষয়ের ৯ নাম্বার অধ্যায় থেকে সৃজনশীল পদ্ধতির একটি নমুনা প্রশ্নোত্তর আলোচনা করব।
প্রশ্ন : ১
নিচের চিত্রটি দেখে প্রশ্নের উত্তর দাও_
প্রশ্ন : ক. ফটোলাইসিস কাকে বলে?
প্রশ্ন : খ. ফটোপিরিওডিজম বলতে কী বোঝায়?
প্রশ্ন : গ. উ পর্যায়ে কীভাবে চিনি তৈরি হয়, বিক্রিয়াসহ ব্যাখ্যা কর।
প্রশ্ন : ঘ. মানুষের সব দৈহিক কর্মকা-ে অ প্রধান ভূমিকা পালন করে, বিশ্লেষণ কর।

উত্তর : ক. সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায়ে সূর্যশক্তির সাহায্যে পানি ভেঙে অক্সিজেন (ঙ২), ইলেকট্রন (ব-) এবং হাইড্রোজেন (প্রোটন ঐ+)-এ পরিণত হয়। পানির এ ধরনের ভাঙনকে ফটোলাইসিস বলে।

উত্তর : খ. উদ্ভিদের ফুল ধারণের ওপর দিবালোকের দৈর্ঘ্যের প্রভাবকে ফটোপিরিওডিজম বলে। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ফটোপিরিওডিজমের গুরুত্ব অপরিসীম। এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে এক ঋতুর ফসল অন্য ঋতুতে ফলানো সম্ভব। এক ঋতুর ফসল উৎপন্ন ও বাজারজাত করে ভিন্ন মৌসুমের ফসল হিসেবে প্রচুর আয় করা সম্ভব।

উত্তর : গ. উ পর্যায় সালোকসংশ্লেষণের অন্ধকার পর্যায়। খ পর্যায়ে অর্থাৎ আলোক পর্যায়ে সৃষ্ট অঞচ ও ঘঅউচঐ২, উ পর্যায়ে বা অন্ধকার পর্যায়ে চিনি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। নিচে চিনি তৈরির প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো_
বায়ুম-লের ঈঙ২ গ্যাস পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে পাতার অভ্যন্তরে তথা কোষে প্রবেশ করে। কোষে অবস্থিত ৫ কার্বনবিশিষ্ট রাইবুলোজ ১, ৫ ডাইফসফেটের সঙ্গে ঈঙ২ গ্যাস যুক্ত হয়ে ৬ কার্বনবিশিষ্ট অস্থায়ী কিটো অ্যাসিড তৈরি করে, যা ভেঙে গিয়ে তৈরি হয় ৩ কার্বনবিশিষ্ট দুই অণু ফসফোগি্লসারিক অ্যাসিড। আলোক পর্যায়ে তৈরি অঞচ ও ঘঅউচঐ২ ব্যবহার করে ফসফোগি্লসারিক অ্যাসিড, ৩ ফসফোগি্লসারাল্ডিহাইড ও ডাই-হাইড্রক্সি এসিটোন ফসফেটে পরিণত হয়। ক্রমাগত সংঘটিত বিভিন্ন বিক্রিয়ার মাধ্যমে ৩ ফসফোগি্লসারাল্ডিহাইড ও ডাই-হাইড্রক্সি এসিটোন ফসফেট হতে একদিকে চিনি তৈরি হয় এবং অন্যদিকে রাইবুলোজ ১, ৫ ডাইফসফেট তৈরি হতে থাকে।

উত্তর : ঘ. অ অর্থাৎ সূর্য থেকে পাওয়া শক্তিই মানুষের দৈহিক কর্মকা- পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে। সূর্যের আলোকশক্তি সালোকসংশ্লেষণ-প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ দেহে রাসায়নিক শক্তি হিসেবে সঞ্চিত হয়। সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায়ে সৃষ্ট অঞচ ও ঘঅউচঐ২ ব্যবহার করে উদ্ভিদ শর্করা-জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে থাকে। যেহেতু উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ-প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে, তাই খাদ্যে শক্তি আসে সূর্য থেকে। মানুষের দেহে এ শক্তি সঞ্চারিত হয় খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে শ্বসন-প্রক্রিয়ায় প্রতিটি সজীব কোষে খাদ্য ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হয়, যা দ্বারা মানুষ তথা জীব সব কাজকর্ম করে। সুতরাং মানুষের সব শক্তির উৎস হলো খাদ্য এবং খাদ্যের শক্তির উৎস হলো সূর্য। কাজেই সূর্যই সব শক্তির উৎস এবং মানুষের সব দৈহিক কর্মকা-ে সূর্য প্রধান ভূমিকা পালন করে।

প্রশ্ন : ২
সেঁজুতি তার ফুলের বাগানে নিয়মিত পানি সেচ ও আগাছা পরিষ্কার করে থাকে। একদিন সে লক্ষ্য করল, কিছু পাতা হলুদ হয়ে গেছে, কিছু গাছের পাতা, ফুল ও কুঁড়ি ঝরে যাচ্ছে। এ সমস্যার জন্য সে একজন উদ্যানতত্ত্ববিদের শরণাপন্ন হলে তিনি বাগানে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহের পরামর্শ দেন।
প্রশ্ন : ক. খনিজ পুষ্টি কাকে বলে?
প্রশ্ন : খ. উদ্ভিদের অত্যাবশ্যকীয় উপাদানগুলোর বৈশিষ্ট্য লিখ।
প্রশ্ন : গ : সেঁজুতির বাগানের গাছগুলোর পাতা হলুদ, ফুল ও কুঁড়ি ঝরে যাওয়ার কারণ কী? ব্যাখ্যা কর।
প্রশ্ন : ঘ. উদ্যানতত্ত্ববিদের পরামর্শ অনুযায়ী সেঁজুতির বাগানের সমস্যা সমাধানের উপায় বিশ্লেষণ কর।

উত্তর : ক. দেহের বৃদ্ধি, শারীরিক পরিপূর্ণতা ও ক্ষয়পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ শোষণ প্রক্রিয়াকে খনিজ পুষ্টি বলে।

উত্তর : খ. উদ্ভিদের অত্যাবশ্যকীয় উপাদানগুলোর বৈশিষ্ট্য :
১. এরা উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও প্রজননের জন্য প্রয়োজন।
২. এদের যে কোনো একটির অভাব হলে অভাবজনিত লক্ষণ প্রকাশ পায়।
৩. একটি উপাদানের কাজ অন্য একটি উপাদান পূরণ করতে পারে না।

উত্তর : গ. উদ্ভিদের সুষম বৃদ্ধি, শারীরিক পরিপূর্ণতা, ক্ষয়পূরণসহ বিভিন্ন জৈবিক কাজ স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য শুধু শর্করা জাতীয় খাদ্যই যথেষ্ট নয়। খাদ্য তৈরির পাশাপাশি উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে বিভিন্ন প্রকার অজৈব লবণ পরিশোষণ করে থাকে। উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য ১৬টি অজৈব উপাদান প্রয়োজন। এর যে কোনো একটির অভাব হলে উদ্ভিদ বিশেষ লক্ষণের মাধ্যমে তা প্রকাশ করে। এ লক্ষণগুলো দেখে বোঝা যায়, উদ্ভিদের কোনো উপাদানের অভাব রয়েছে। সেঁজুতির বাগানের গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া এবং ফুল ও কুঁড়ি ঝরে যাওয়া হলো পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত লক্ষণ। উদ্ভিদে নাইট্রোজেনের অভাব হলে পাতায় ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে পাতা হলুদ হয়ে যায়। উদ্ভিদে ফসফরাসের অভাব হলে ফুল ও ফল ঝরে যায়। সুতরাং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের অভাবজনিত কারণেই সেঁজুতির বাগানে এ ধরনের সমস্যা হয়েছিল।

উত্তর : ঘ. উদ্যানতত্ত্ববিদের মতে, বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত কারণেই সেঁজুতির বাগানের গাছগুলোতে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। উদ্ভিদে নাইট্রোজেনের অভাবে পাতায় ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে পাতা হলুদ হয়ে যায়। পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ক্লোরোসিস।
বাগানে ইউরিয়া সার প্রয়োগের মাধ্যমে নাইট্রোজেনের অভাব পূরণ করে সেঁজুতির উদ্ভিদের পাতার এ সমস্যা দূর করা যেতে পারে। আবার উদ্ভিদে ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি বর্ণ ধারণ করে, মূলের বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা, ফুল ও ফল ঝরে পড়ে। বাগানে ট্রিপল সুপার ফসফেট ব্যবহার করে ফসফরাসের অভাব পূরণের মাধ্যমে সেঁজুতির বাগানের উদ্ভিদের পাতা, ফুল ও কুঁড়ি ঝরে পড়া রোধ করা সম্ভব।