Return code: 0 Output: জেএসসি পরীক্ষার স্পেশাল প্রস্তুতি -002 | EduVai
Blog

জেএসসি পরীক্ষার স্পেশাল প্রস্তুতি -002

EduVai updates, advice, and education stories.

Updated Apr 11, 2015
অধ্যায়-২

প্রিয় শিক্ষার্থী, আজ তোমাদের জন্য বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয় থেকে অধ্যায়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর দেয়া হলো।
আফনান শহরের মধ্য দিয়ে তার বোনের বাসায় যাচ্ছে। হঠাৎ সে টাউন ক্লাবের মাঠে বিশাল এক জনসমাবেশ লক্ষ্য করল। সে জানতে পারল, আজ একটি জাতীয় দিবস। মুহূর্তের মধ্যে সে মাইকে বজ্রকণ্ঠের একটি ভাষণ শুনতে পেল। 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' ভাষণটি আফনানের মনে দাগ কাটে। সে জানতে আগ্রহী হয়, কিসের জন্য এ ভাষণটি। কে দিচ্ছে এ জ্বালাময়ী ভাষণ।

প্রশ্ন : ক. যুদ্ধ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কী বলেন?
প্রশ্ন : খ. ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগ কেন সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত হতে বাধ্য হয়?
প্রশ্ন : গ. উদ্দীপকে আফনানের শ্রুত ভাষণটি কী কী বৈশিষ্ট্য বহন করে? ওই ভাষণের বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধর।
প্রশ্ন : ঘ. আফনানের শ্রুত ভাষণটি বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের পথিকৃৎ, তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে যুক্তিসহ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর : ক. যুদ্ধ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, 'প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলো এবং তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো।'
উত্তর : খ. ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয় অর্জন করে। নিয়মানুযায়ী গণরায়ের ভিত্তিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে সরকার গঠনের সুযোগ দেয়া হয়। অথচ ভুট্টোর চালে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বিলম্ব করতে নানা অজুহাত তৈরি করেন। আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সাংবিধানিক-প্রক্রিয়ার বাইরে আন্দোলন কর্মসূচি এবং পরে সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত হতে বাধ্য হয়।
উত্তর : গ. আফনান বোনের বাসায় যাওয়ার সময় টাউন ক্লাব মাঠের সমাবেশস্থল থেকে মাইকে বজ্রকণ্ঠে যে ভাষণটি শুনেছে, তা ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের। এ ভাষণটি দেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ওই ঐতিহাসিক ভাষণে যেসব বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তা হলো_
১. পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে সর্বাত্মক অসহযোগিতার নির্দেশ দিয়ে তিনি তার ভাষণে কোর্ট-কাচারি, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন।
২. বিজয়ী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশ পরিচালনার ঘোষণা দেন।
৩. দেশ মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের খাজনা-ট্যাক্স বন্ধের নির্দেশ।
৪. গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মুক্ত করার প্রকাশ্য নির্দেশ।
৫. বাংলাদেশ শব্দ ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ নতুন রাষ্ট্রের নামকরণ চূড়ান্ত করা হয়।
উত্তর : ঘ. আফনানের শ্রুত ভাষণটি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের। এ ভাষণটি ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ। বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের পথিকৃৎ। এ ঐতিহাসিক ভাষণে বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের দিকনির্দেশনা দেয়া হয়। এ ভাষণ সারা দেশের মানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করা হয়। এ ভাষণ তাদের ঐক্যবদ্ধ করে। সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে দেশ ও দশের কাজে স্বাধীনতাসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে। এ ভাষণ যেন জাদুর স্পর্শে বাঙালি জাতিকে বীরের জাতিতে রূপায়িত করেছে। তাই অনেকেই মনে করেন, এ ভাষণ বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এ ভাষণের পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধ জনগণ অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেয়। এবং মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, কল-কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ জনতা বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে থাকে। খাজনা, ট্যাক্স আদায় বন্ধ হয়ে যায়। সেনানিবাস ছাড়া সর্বত্র বঙ্গবন্ধুর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের সদর দপ্তর বঙ্গবন্ধুর ৩২ নাম্বার ধানম-ির বাড়িতে দলের সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের কাজ চলছিল। অবস্থা উপলব্ধি করে ইয়াহিয়া ১৫ মার্চ ঢাকা সফরে আসেন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেন। ১৬ মার্চ থেকে আলোচনা শুরু হয়। ২২ মার্চ জুলফিকার আলী ভুট্টো ঢাকা আসেন। তিনিও আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনা ব্যর্থ করে দিয়ে ২৫ মার্চ রাতে ইয়াহিয়া ভুট্টো ঢাকা ত্যাগ করেন। আর ঠিক ওই দিনই মধ্যরাতে নেমে আসে বাঙালির ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর চরম আঘাত। ২৫ মার্চের ওই কালরাতে পাকিস্তানি সেনারা বহু বাঙালিকে নির্বিচারে হত্যা করে। পাকিস্তানিদের বর্বর হামলার শিকার নির্যাতিত-নিপীড়িত নিরস্ত্র বাঙালিরা মাতৃভূমিকে রক্ষা তথা এ দেশের নিরপরাধ মানুষের জীবন, ইজ্জত ও অধিকার আদায়ে স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাই উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা বলা যায়, আফনানের শ্রুত ভাষণ এ দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পথিকৃৎ।