জেএসসি পরীক্ষার স্পেশাল প্রস্তুতি

                                                                            শিক্ষার্থীরা, বাংলা প্রথম পত্রের 'পড়ে পাওয়া' থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর দেয়া হলো।

নিচের উদ্দীপক পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও।
সন্ধ্যায় দেখা গেল, নিজেদের ছাগলের সঙ্গে অতিরিক্ত একটি ছাগলও আথালে ঢুকছে। ইশার নামাজের সময় পার হয়ে গেল, কিন্তু কেউ খোঁজ নিতে এলো না। দাদু বললেন, না, না চুপ করে থাকা ঠিক হবে না। এক কাজ কর, রফিক-শফিক বেরিয়ে পড়। প্রতিবেশী নাবিল আর তালিমকে সঙ্গে নিয়ে দুজন দুই দিকে যেও। মসজিদ থেকে চোঙা নিয়ে গাঁয়ে ঘোষণা দিয়ে আস। কিছুক্ষণের মধ্যে দুই ভাই দাদুর পরামর্শমতো বলতে লাগল_ ভাইসব, একটি ছাগল পাওয়া গেছে। যাদের ছাগল, তারা দয়া করে মতিন শিকদারের বাড়ি থেকে নিয়ে যান।

প্রশ্ন : ক. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোন ধরনের লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত?

প্রশ্ন : খ. 'দুজনই হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম' কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

প্রশ্ন : গ. রফিক-শফিকের চোঙা ফোঁকার ঘটনাটি 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কোন ঘটনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

প্রশ্ন : ঘ. উদ্দীপকের দাদু যেন 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল চেতনারই প্রতিভূ_ বিশ্লেষণ কর।

উত্তর : ক. নির্সগের রূপকার হিসেবে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় সমধিক পরিচিত।

উত্তর : খ. টিনের বাক্সে রক্ষিত টাকা নিজেরা ভাগ না করে মালিককে ফেরত দেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে এ উক্তিটি করা হয়েছে।
পড়ে পাওয়া গল্পে বিধু ও তার বন্ধু একটি টিনের বাক্স পড়ে পায়। এটি পাওয়ার পর তারা ভাবে, বাক্সে যা আছে তা তারা ভাগ করে নেবে। কিন্তু পরের প্রয়োজনীয় এ অর্থের কথা ভেবে অধর্ম করা যাবে না বলে তারা তা প্রকৃত মালিককে ফেরত দিতে মনস্থির করে। এ ব্যাপারে ওই উক্তিটি করা হয়েছে।

উত্তর : গ. উদ্দীপকের রফিক-শফিকের চোঙা ফোঁকার ঘটনাটি পড়ে পাওয়া গল্পের কিশোরদের নদীর ধারের গাছে পোস্টার লগানোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
উদ্দীপকের রফিক-শফিকের দাদু যখন দেখলেন ছাগলটি কেউ নিতে আসছে না, তখন তিনি তার নাতিদের বললেন চোঙা ফোঁকাতে। এখানে পরের জিনিসের প্রতি নির্লোভ থাকতে নির্দেশ করা হয়েছে। পড়ে পাওয়া গল্পে আমরা দেখি টিনের বাক্স ফেরত দেয়ার ব্যাপারে কিশোরদের বিজ্ঞাপন দেয়ার বিষয়টি।
কিশোররা পড়ে পাওয়া গল্পে টিনের বাক্সটি যখন এর মালিককে ফেরত দেয়ার পরিকল্পনা করে, তখন তারা কোন উপায়ে তা ফেরত দেবে, ভাবতে থাকে। পড়ে পাওয়া সম্পদের মালিককে খুঁজে পেতে চাইলে প্রাপ্তি সংবাদটি সবাইকে জানানোর বিকল্প নেই বলে তাদের ভাবনা প্রতিফলিত হয়। পড়ে পাওয়া গল্পে কিশোররা বিধুর পরামর্শে নদীতীরের গাছে প্রাপ্তিসংবাদসহ পোস্টার সেঁটে দেয়। উদ্দীপকে ছাগলপ্রাপ্তির সংবাদ প্রচারে দাদুর নির্দেশমতো রফিক-শফিক মসজিদের টিনের চোঙা নিয়ে গাঁয়ে বেরিয়ে পড়ে এবং চোঙা ফুঁকে ফুঁকে সবার মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করে। অন্যের সম্পদের প্রতি নির্লোভ থাকার বিষয়টি এভাবে গল্পে ও উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।

উত্তর : ঘ. দাদু তার নির্লোভ মানসিকতার পরিচয়ের মধ্য দিয়ে পড়ে পাওয়া গল্পের মূল চেতনার প্রতিভূ হয়ে উঠেছেন।
পড়ে পাওয়া গল্পে কিশোররা পরের সম্পদের দিকে লোভ না করে তা ফেরত দেয়ার মানসিকতার মধ্য দিয়ে যেমন নির্লোভ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে, উদ্দীপকের দাদু ঠিক তেমন মানসিকতার পরিচয় দিয়ে বিধু ও তার কিশোর বন্ধুদের সঙ্গে মিলে গেছেন।
পড়ে পাওয়া গল্পে কিশোররা একটি টিনের বাক্স পায়, কিন্তু তারা তা আত্মসাৎ না করে প্রকৃত মালিককে ফেরত দেয়ার উদ্যোগ নেয়। কিশোরদের চেতনা ও কাজকর্মের সঙ্গে উদ্দীপকের দাদু চরিত্রটি বেশ মিলে যায়। কেননা, তিনি ঘরে ঢোকা অতিরিক্ত ছাগলটি মালিককে ফিরিয়ে দিতে মনস্থির করেন এবং সে লক্ষ্যেই রফিক-শফিককে এ সংবাদটি প্রচারের জন্য আদেশ দেন।
পরের সম্পদের দিকে লোভ না করা ভালো। পড়ে পাওয়া গল্পে এরই শিক্ষা প্রতিফলিত হতে দেখা যায় উদ্দীপকের দাদুর চরিত্রে। অন্যের জিনিসের প্রতি তিনি কোনো লোভ করেননি। গল্পের কিশোরদের মধ্যেও একই প্রবণতার পরিচয় পাওয়া যায়। এ কারণে উদ্দীপকের দাদু তার কাজের মানসিকতার মাধ্যমেই সেসব কিশোরের চিন্তার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠেন। তাই বলা যায়, দাদুর সৎ মানসিকতা গল্পের কিশোরদের নৈতিক মানসিকতারই প্রতিভূ।
পরবর্তী অংশ আগামীকাল

তথ্য সুত্রে অনলাইন ।